<div style='background-color: none transparent;'></div>
Home » » আমার পাওয়া প্রথম প্রপোজাল ~ শ্রুতি গোস্বামী

আমার পাওয়া প্রথম প্রপোজাল ~ শ্রুতি গোস্বামী

আমার পাওয়া প্রথম প্রপোজাল ~ শ্রুতি গোস্বামী

" আমার তোর সাথে দরকারী কথা আছে। একটু এদিকে আয়।"
দুজনেই এগতে বলে: " মণি র আসার দরকার নেই। ওকে একটু যেতে বল।"
শুনেই মাথা গরম হয়ে গেল। মণিও ঝাঁঝিয়ে উঠলো:" কেন রে? ও আমার বন্ধু। তোর যা বলার আমাদের দুজনের সামনেই বলতে হবে। কি এমন বলবি যে আমি থাকতে পারবোনা?"
আমিও ভেবে কূল পাচ্ছিলাম না। কি দরকার? তবে কি ও আমাদের সাথে খেলতে চায়, সেটা বলার জন্য ডাকছে? নাকি আমরা খেলার সময়ে ওকে মেইন রোড এ সাইকেল চালাতে বলি সেই নিয়ে? খেলার জায়গায় বহুবার ওর সাইকেল এ আমরা ধাক্কা খেয়েছি। সেই নিয়ে বেশ কয়েকবার রাগারাগি হয়েছে। তবে কি সেটা নিয়ে বলবে?
উপায় না দেখে রাণা বললো: " তোকে বলার ছিল যে তোকে আমি পছন্দ করি।"

আমি হাঁ করে চেয়ে রইলাম। বাপের জন্মে এরকম কথা শুনিনি। পছন্দ করে মানে? আমার সাইকেল টা চালাতে চায়? মনে পড়লো কিছুদিন আগে আমার নতুন বি এস এ এস এল আর দেখে রাণা বলেছিল সাইকেল টা ভাল।বলেছিলাম রেসিং সাইকেল, রেস করবি নাকি? মুখ ভেটকে বলেছিল আমি মেয়েদের সাথে রেস করিনা। জ্বলে গিয়েছিল, বলেছিলাম ছেলেদের সাথে তো পারবিনা,আমার সাথে চেষ্টা করে দেখ,আস্তে চালাবো। তাতে বেশ চটে গেছিল। তাহলে কি সাইকেলের লোভে এসব বলছে? নাকি পড়াশোনার ব্যাপারে কিছু বলতে চাইছে? কিন্তু ও আমার চেয়ে এক ক্লাস সিনিয়ার। স্কুল ও আলাদা। নাহ। সেটা কারণ নয়।এরকম বলার মানে কি? মাথায় কিছুই ঢুকছেনা।
মণি বুঝে গেছিল। ও হেসে মুখ বেঁকিয়ে বলে " হুঁহ পছন্দ করিস! আয়নায় নিজের মুখ টা দেখেছিস? সাইকেল চালাচ্ছিস তাই চালা। পাকামো মারিস না। প্রেম করার শখ হয়েছে! স্কুল এ কি এই সব শিখছিস নাকি! "
রাণা রেগে গেলে একটু তোতলাতো। বললো" তো তো তোকে বলেছি নয় দূ দূ দূরে যা নাহলে চুপ থাক। তুই কে?"
আমার মাথায় তখন ঢুকলো! আচ্ছা এই ব্যপার! চড়াৎ করে মাথাটা গরম হয়ে গেল। আমাকে পছন্দ করে? আমি কি সাইকেল না বই না জিনিস যে আমাকে পছন্দ করছে? সাহস তো কম না? আমাকে পছন্দ করার কারণ কি? আমাদের সাথে খেলে না বন্ধুত্ব নেই কিছুনা, মুখ উঠিয়ে বলতে চলে এল! এত সাহস!
" তোর যা বলার বলে ফেলেছিস? এবারে যা। চল মণি।"
এগতে যাব, রাণা সাইকেল নিয়ে আমার রাস্তা আটকে দাঁড়ালো।
" তোর উত্তর টা পেলাম না। তুই আমাকে পছন্দ করিস না করিসনা?"
মাথায় তখন আগুন জ্বলছে। এত বড় আসস্পদ্দা! আবার রাস্তা আটকে দাঁড়িয়েছে! মুখ বেঁকিয়ে বললাম" তোকে পছন্দ করার মতন আছে টা কি? যা তো। বেকার সময় নষ্ট করাচ্ছিস।"
আবার এগতে যাব, আবার সাইকেল নিয়ে রাস্তা আটকালো।
" ভাল হচ্ছেনা রাণা। রাস্তা ছাড়বি? "
" না ছাড়লে কি করবি?"
" দেখবি কি করবো?"
" হ্যাঁ দেখা!"
ওমনি আমি রাণার সাইকেল টা দু হাতে চেপে ধরে ওকে সমেত ঠেলতে ঠেলতে রাস্তার পাশে মাঠের আগে ড্রেন টাতে নিয়ে গিয়ে একটা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলাম। ও বসে ছিল। টাল খেয়ে আদ্ধেক ড্রেন এ আদ্ধেক টা সাইকেল সমেত মাটিতে ঠেকে।
পেছনে মণির অট্টহাস্য।
হাত ঝেড়ে বললাম:" আর ফের যদি রাস্তা আটকাতে আসিস, এর পরে সাইকেল ভেঙে তোর মার কাছে দিয়ে আসবো। আর খবরদার আমাকে পছন্দ করতে আসবিনা।
রাণা তখনো ওই ভাবেই আদ্ধেক ড্রেন এ সাইকেল নিয়ে, হকচকিয়ে গেছে। কি করবে কি বলবে বুঝতে পারছেনা।
মণি শেষে যাওয়ার আগে বলে গেল: " নে এবার ড্রেন এ শুয়ে শুয়ে পছন্দ কর মেয়ে।"
তখন বুঝিনি, ওটা প্রোপোজাল ছিল। ওই বয়েসে এর চেয়ে বেশি ম্যাচিউরিটি ছিলনা। কি আর করা যাবে! তবে থাকলেও ছেলেটির কপালে যে দুর্ভোগ থাকতই, সে নিয়ে আজ ও সন্দেহ নেই।
Share this article :

0 comments:

Post a Comment

 
Copyright © 2011. Bismillah Digital Studio . All Rights Reserved
Company Info | Contact Us | Privacy policy | Term of use | Widget | Advertise with Us | Site map
Template Modify by Creating Website. Inpire by Darkmatter Rockettheme Proudly powered by Blogger