<div style='background-color: none transparent;'></div>

যারা জীবনে সফল হতে পারেননি তারা একবার পড়ুন

যারা জীবনে সফল হতে পারেননি তারা একবার পড়ুন

না এখানেই সব শেষ নয়।
যেখান থেকে শেষ সেখান থেকে শুরু করে দেখুন।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮০৯ - মৃত্যু: ১৫ এপ্রিল, ১৮৬৫) এর কথাই ধরি, আজকে শুধু তার দৃষ্টান্ত দেখাবো, পরবর্তীতে ব্যার্থতা থেকে সফলতার অনেক গুলো পর্ব নিয়ে আসবার ইচ্ছা থাকলো। ব্যর্থতাকে কিভাবে জয়ে পরিনত করতে হয়, নতুন করে শুরু করতে হয়, একবার হারিয়েছি বলে সব শেষ হয়ে গিয়েছে এটাই শেষ কথা নয়। একবার না পারিলে দেখো শতবার কথাটা যে সত্য সেটার সার্থকতা আপনিও প্রমান করতে পারবেন।
০১) ২৩ বছর বয়সে চাকুরী হারান এবং রাজনীতিতে পরাজিত হন।
০২) ২৪ বছর বয়সে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে ব্যবসার মূলধন হারান।
০৩) ২৬ বছর বয়সে হারান প্রিয়তমা প্রেমিকা অ্যান কে।
০৪) ২৭ বছর বয়সে তার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়।
০৫) দেখতে ও সুশ্রী ছিলেননা।
০৬) জন্মেছিলেন অতি দরিদ্র ঘরে।
০৭) ২৯ বছর বয়সে স্পীকার পদে পরাজিত হন।
০৮) ৩৪ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে হেরে যান।
০৯) ৩৯ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে আবার পরাজিত হন।
১০) ৪০ বছর বয়সে ভূমি অফিসার পদে রিজেক্ট বা বাদ পড়েন।
১১) সিনেট নির্বাচনে হেরে যান ৪৫ বছর বয়সে।
১২) ৪৭ বছর বয়সে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে গিয়ে হেরে যান।
১৩) ৪৯ বছর বয়সে সিনেট নির্বাচনে আবারো হারেন
১৪) অবশেষে ৫২ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

এই হলো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ব্যার্থতার খেরোখাতা। আজ আমরা হলে হয়তো হাল ছেড়ে দিতাম। বলতাম এসব আমার জন্য নয়। কিন্তু না তিনি ছিলেন আব্রাহাম লিংকন, অতি দরিদ্র অবস্থা থেকেই অসম্ভব স্বপ্নকে ছুয়েছিলেন। হয়েছিলেন আমেরিকার সর্বকালের সেরা প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার গৃহযুদ্ধ ঠেকিয়েছিলেন, সাদা কালোর বিভেদ দুর করেছিলেন, সংকটময় মুহুর্তে আবির্ভাব হয়েছিলেন আমেরিকার ত্রাতা হিসেবে। কোয়ান্টাম মেথডের মতে পারবোনা বললেই আর পারবেননা। শুধু একবার পারবো বললেই অনেক কিছু পারবেন। পারবোনা বললে দেখবেন অনেক না পারার অজুহাত চলে আসবে। এটা সেটা বলবেন, হয়তো অজুহাত দেখাবেন, আপনি গরীব ঘরে জন্মেছেন, আপনি বস্তিতে জন্মেছেন, আপনার বাবার টাকা নেই, আপনি কালো, আপনি বেটে, আপনি পড়াশোনাই ভালোনা, আপনি নিচু জাতে জন্মেছেন। থাক আর বলবোনা। এবার দেখুন আপনার এসব অজুহাত কিছুনা। আপনি শুধু খুজে বের করুন আপনার প্রতিভা কিসে, কোনটা করতে ভালো লাগে, আর করুন নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে পরিশ্রম। আর সব থেকে বড় কথা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। আমাদের মা বাবারা ছেলেকে কি বানাবেন জিজ্ঞাসা করলে সেই মান্ধাতা আমলের উত্তর, ডাক্তার বা ইন্জিনিয়ার, বোধ হয় জগতে এ ছাড়া আর পেশা নেই। আর কোন পথ নেই। A+ না পেলে তুমি ফিনিসড এটাই শিখানো হচ্ছে। এতে না তৈরি হচ্ছে কোন সৃজনশীল সাহিত্য মনের মানুষ। আমরা শুধু রবীন্দ্র নজরুল শরৎ বাবুর দেবদাস এসব অনুকরন করছি, এক অভিনেতা দেবদাস করেছে ০৫ বছর আগে তো আরেকজন সেই একই দেবদাস করছে ০৫ বছর পর। নতুন করে দেবদাসের মত আরেকটা রোমান্টিক উপন্যাস রচনার মত লেখক তৈরি হচ্ছেনা। বাবুরাম সাপুড়ে সেই কোনকালে রচিত, এ রকম একটা ছড়া আমরা রচনা করতে পারছিনা, পারছি ওই ছড়াটাকে রক স্টাইলে পাশ্চাত্য ঢঙে রিমিক্স করে বানাতে।
তো বলছিলাম আপনার কাজ না করার অজুহাতের কথা। বস্তিতে জন্মেছেন, আপনি অবহেলিত, সমাজের মানুষেরা আপনাকে ঘৃনা করে দুর দুর করে তাড়ায়, এ জন্য আপনি মনে করেন টোকাই হয়ে থাকতে হবে সারাজীবন ? তাহলে তাকান আর্জেন্টাইন ফুটবলার মেসির দিকে, ডাক্তার বলেছিলেন ও বামন রোগে আক্রান্ত। চারফুটের বেশি বাড়বেনা। সব মিথ্যে, সব মিথ্যা প্রমান করে সে বার্সেলোনাতে ছোট বয়স থেকেই তার স্থান নিলো। বিশ্বখ্যাত বিশ্বসেরা ক্লাব বার্সেলোনা তার দায়িত্ব নিলো। মেসির বাবার কি ছিলো, ছিলো শুধু মেসির প্রতিভা, সব কথা মিথ্যা করে মেসি ভিনগ্রহের খেলোয়াড় হলেন, উচ্চতা ৫ ফুট ০৭ ইঞ্চি হলো বিধাতার আশির্বাদে। হয়তো পরিশ্রমী আর ভাগ্যবানের বোঝা ভগবানে বয়। আপনার জাত ছোট, তাহলে দেখুন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোদির দিকে, সামান্য চা বিক্রি করা বাবার ছেলে যে নিজেও চা বিক্রি করে আজ বৃহৎ দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আপনি বেটে, বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম বা মমিনুল কে দেখুন বা ভারতের শচীন টেন্ডুলকারকে দেখুন, বা কিংবদন্তী ফুটবল যাদুকর ম্যারাডোনা কে দেখুন। আপনি কালো, তাতে কি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল, শ্রীলংকান মুত্তিয়া মুরালিধরন,সর্বকালের সেরা বক্সার মোহাম্মদ আলী, ব্রাজিলের ফুটবল কিংবদন্তী পেলে এরা তো সবাই কালো।আপনার ব্যবসার টাকা নেই, আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আকিজ সাহেবের শুরুর কাহিনী নেটে সার্চ দিয়ে পড়ে নিন। পড়াশোনার কথা বলছেন,, বিশ্বের এক নম্বর ধনী বিলগেটস পড়াশোনা সম্পূর্ন না করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাইক্রোসফটের মত প্রতিষ্ঠান। পড়াশোনাতে ভালো না করেও তেতুলিয়ার মুস্তাফিজ বাংলাদেশের হালের বিশ্ব ক্রিকেট সেনশেসন। তবে আমি পড়াশোনা ফাঁকিবাজ দের সম্পূর্ন বিরোধী। মনে রাখবে পড়াশোনা না করলেই রবীন্দ্র নজরুল মুস্তাফিজ বা বিলগেটস হওয়া যায়না। এটা শুধু বলেছি এ কারনে যে কোনক্রেমে তুমি জীবনযুদ্ধ না বুঝে পড়াশোনায় ফাকি দিয়েছো, রেজাল্ট খারাপ করে কোন ভালো ভবিষ্যত দেখছোনা, তো যেটা হয়নি সেটা ভেবে লাভ নেই, PAST IS PAST, এখন চেষ্টা করো অন্য কিছু করবার পৃথিবী তোমাকে যেমন হাজারটা সমস্যা দিয়েছে তেমন দিয়েছে হাজারটা সমাধান। সুশিক্ষিত জাতি গড়তে শিক্ষার বিকল্প নেই।
আরো একটা সংস্কার আমাদের সমাজে যার জন্য বেকারত্ব বেশি, আমাদের কাজকে ছোট মনে করা। ধরুন আপনার বাবা বড় কর্মকর্তা। তিনি কর্মকর্তা হয়েছেন তার নিজের মেধা ও যোগ্যতায়। কিন্তু দেখা গেলো হয়তো তার কর্মব্যাস্ততার কারনে আপনাকে তিনি ততটা গাইড করতে পারেননি। ফলে আপনি বাজে বন্ধুর কারনে বখাটে হলেন। পরীক্ষার আগে পড়াশোনা করলেন এবং কোনরকম পাশ করলেন। ফলে আপনি না পারবেন বাবার মত যোগ্য হতে বা না পারবেন নার্সারি, মাছ চাষ, পোল্ট্রি বা ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এর মত সম্ভাবনাময় খাতের উদ্যোক্তা হতে। হয়তো আপনাকে দেখে পাছে লোকে টিপ্পনি কাটে অফিসারের ছেলে শেষে মুরগী পালবে। তখন আপনি মান রক্ষার্থে স্ট্যাটাস রক্ষার্থে অসাধু পন্থায় একটা চাকুরী যোগাড় করলেন। সাথে হয়তো দরিদ্র বলে একটা প্রতিভা যে আপনার থেকে কাজ ভালো বুঝতো তাকে বঞ্চিত করলেন। এই জাতীয় ছোট মানসিকতা থেকে না বের হতে পারলে আমাদের উন্নতি হবেনা বা বেকারত্ব থেকে মুক্ত হবেনা।
সবশেষে একটা কথা বলি তোমার যদি কিছু করবার ইচ্ছা থাকে তবে কোন কিছুই তোমাকে আটকাতে পারবেনা। তুমি পারবে, যদি তোমার ভিতর থাকে ইচ্ছার আগুন।
Continue Reading | comments

শবে বরাত : ফযীলত ও আমল

শবে বরাত : ফযীলত ও আমল

ফার্সী ভাষায় ‘শব’ শব্দটির অর্থ রাত। ‘বরাত’ শব্দটি আরবী থেকে গৃহীত। বাংলায় ‘বরাত’ শব্দটি ‘ভাগ্য’ বা ‘সৌভাগ্য’ অর্থে ব্যবহৃত হলেও আরবী ভাষায় এ শব্দটির অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আরবী ভাষায় ‘বারাআত’ শব্দটির অর্থ বিমুক্ত, সম্পর্কছিন্নতা, মুক্ত হওয়া, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া ইত্যাদি। ফার্সী ‘শবে বরাত’ ও আরবী ‘লাইলাতুল বারাআত’ অর্থাৎ ‘বিমুক্তির রজনী’ বলতে আরবী পঞ্জিকার ৮ম মাস, শাবান মাসের মধ্য রজনীকে বুঝানো হয়। কুরআন ও হাদীসে কোথাও ‘লাইলাতুল বারাআত’ পরিভাষাটি ব্যবহার করা হয়নি। সাহাবী-তাবেয়ীগণের যুগেও এ পরিভাষাটির ব্যবহার পাওয়া যায় না। এ রাতটিকে হাদীস শরীফে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা ‘ মধ্য শাবানের রজনী’ বলা হয়েছে।

একজন মুমীনের জন্য ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদীসের নির্দেশনা ভিন্ন অন্য কোন পথ নেই। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন- ‘আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে গেলাম। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ঐ দুটি জিনিসকে আঁকড়ে ধরে থাকবে, কখনই পথভ্রষ্ট হবে না। তা হল, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাত। {মুয়াত্তা মালিক, হাদীস-১৩৯৫}
তাই একজন মুমীন কখনই কুরআন ও হাদীসের নির্দেশনার বাইরে কোন কাজ করতে পারে না। আর করলেও তা কখনও ইবাদত হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শবে বরাতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি সমভাবে প্রযোজ্য।
কুরআন-হাদীসের নীতিমালা বহির্ভূত, রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত কোন বিষয়ের ব্যতিক্রম কোন বিশ্বাসের ভিত্তিতে শরীয়তের মাঝে নব উদ্ভাবিত যে কোন আমলই হল বিদআত। আমাদের সমাজে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে নানা রকম বিদআত গড়ে উঠেছে, যা কুরআন-হাদীস সমর্থিত নয়। এই প্রেক্ষাপটে একজন মুমীন হিসেবে শবে বরাতের ফযীলত ও আমল সম্পর্কে কুরআন-হাদীসের নির্দেশনা জেনে আমল করা উচিত।
মুফাসসীরগণের ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, আল-কুরআনের কোথাও শবে বরাত সম্পর্কে বলা হয়নি। কেউ কেউ সূরা দুখানের একটি আয়াত শবে বরাতের সমর্থনে পেশ করে থাকেন, আয়াতটি হল- ‘আমি তো তা (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, এক মুবারক (বরকতময়) রজনীতে এবং আমি তো সতর্ককারী। এ রজনীতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুমোদিত হয়’। {সূরা ৪৪ দুখান, আয়াত-৩, ৪}
এই আয়াতে যে বরকতময় রজনীর কথা বলা হয়েছে, তা মূলত ‘শবে কদর’ বা ‘লাইলাতুল কদর’। শবে বরাত নয়। কেননা, কুরআন নাযিল হয়েছে যে রাত্রিতে, তা হল শবে কদরের রাত্রি। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। তাই একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, শবে বরাত সম্পর্কে কুরআনে কিছুই বলা হয়নি। তবে, হাদীস শরীফে শবে বরাত সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে। নিম্নে ঐ বর্ণনা সমূহের একটি সার সংক্ষেপ পেশ করা হল।
হযরত আবু মুসা আশআরী রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন- ‘মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন’। {সুনানে ইবনে মাযাহ, হাদীস-১৩৮০}
অনুরূপভাবে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা মধ্য শা’বানের রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, অতঃপর বিদ্বেষী ও আত্মহননকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন’। {মুসনাদে আহমদ, হাদীস-৬৩৫৩}
অনুরূপভাবে আবু সালাবাহ আল-খুশানী রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। অতঃপর মুমীনদেরকে মার্জনা করে দেন। আর কাফেরদেরকে অবকাশ দেন এবং পরশ্রীকাতরতায় লিপ্তদেরকে তাদের অবস্থায় ছেড়ে দেন, যতক্ষণ না তারা তাকে (আল্লাহকে) আহবান করে।’ {আল-মুজামুল কাবীর লিত তবরানী, হাদীস-১৮০৩৯}
অনুরূপভাবে আয়েশা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘মহিমান্বিত মহান আল্লাহ তাআলা মধ্য শাবানের রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন। অতঃপর ‘কালব’ সম্প্রদায়ের মেষপালের পশমের চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে ক্ষমা করে দেন।’ {তিরমিযী শরীফ, হাদীস-৬৭০}
সম্ভবত তৎকালীন সময়ে ‘কালব’ সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি মেষপালের মালিক ছিল। সে কারণেই ‘কালব’ সম্প্রদায়ের মেষপালের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমাদের প্রতিপালক মধ্য শাবানের রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং শিরকে লিপ্ত অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন’। {বুগিইয়্যাতুল হারেছ, হাদীস-৩৩৫}
অনুরূপভাবে হযরত আয়েশা রাযি.-এর সূত্রে বর্ণিত যে, মধ্য শাবানের রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ সা. তাঁকে বললেন, তুমি কি জানো আজকের রাত্রিটি কোন রাত্রি? তিনি বললেন হে আল্লাহর রাসূল, এ রাত্রে কি আছে? তখন তিনি বললেন, ‘এ রাত্রে চলতি বছরে জন্ম গ্রহণকারী আদম সন্তানের নাম এবং চলতি বছরে মৃত্যু বরণকারী আদম সন্তানের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। এ রাতে আদম সন্তানের আমল কবুল করা হয় এবং তাদেরকে রিযিক প্রদান করা হয়। অত:পর আয়েশা রাযি. বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সা.আল্লাহর রহমত ছাড়া কেউ কি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে? তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, আল্লাহর রহমত ছাড়া কেহই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এ কথা তিনি তিন বার বললেন। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আমি বললাম, আপনিও কি আল্লাহর রহমত ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন না। তখন রাসূলুল্লাহ সা. হযরত আয়েশার কাঁধে হাত রেখে বললেন, আল্লাহর রহমত আমাকে ঢেকে না নিলে আমিও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো না। তিনি এ কথাটিও তিনবার বললেন।’ {মিশকাত শরীফ, হাদীস-১৩০৫}
অনেক হাদীস বিশারদগণ উক্ত হাদীসের সনদ বা বর্ণনা সুত্রকে দূর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করলেও ইমাম নাসায়ী এই হাদীসের সনদকে চলন সই বলে আখ্যায়িত বরেছেন। অনুরূপভাবে উসমান ইবনু আবিল আস্ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যখন মধ্য শাবানের রাত আগমন করে তখন একজন আহবানকারী আহবান করতে থাকে, কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। কোন যাচনাকারী আছে কি? আমি তাকে দান করব। ব্যভিচারী ও শিরকে জড়িত ব্যতীত যত লোক যা কিছু চাইবে সকলকেই তা দেয়া হবে।’ {শুয়াবুল ঈমান লিল-বাইহাকী, হাদীস-৩৬৭৬}
অনুরূপভাবে হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, ‘এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সা.কে খুঁজে পেলাম না। তখন বের হয়ে দেখি তিনি জান্নাতুল বাক্বীতে (মদীনা শরীফের একটি কবরস্থানের নাম) আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে আছেন। তিনি বললেন, তুমি কি আশংকা করেছিলে যে, আল্লাহ ও রাসূল সা. তোমার উপর অবিচার করবেন! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি ধারনা করেছিলাম যে, আপনি আপনার অন্য স্ত্রীর নিকট গমন করেছেন। তখন তিনি বললেন, মহিমান্বিত আল্লাহ মধ্য শাবানের রাত্রে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং ‘কালব’ গোত্রের মেষপালের পশমের অধীক সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করেন। {সুনানে ইবনু মাযাহ, হাদীস-১৩৭৯}
অনুরূপভাবে হযরত আলী রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যখন মধ্য শাবানের রাত আসে, তখন তোমরা রাতে (সালাতে-দুআয়) মশগুল থাক এবং দিবসে সিয়াম পালন কর। কারণ ঐ দিন সূর্যাস্তের পর মহান আল্লাহ পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন, কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। কোন রিযিক অনুসন্ধানকারী আছে কি? আমি তাকে রিযিক প্রদান করব। কোন দূর্দশাগ্রস্থ ব্যক্তি আছে কি? আমি তাকে মুক্ত করব। এভাবে সুবহে সাদিক উদয় হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।’ {সুনানে ইবনু মাযাহ, হাদীস-১৩৭৮}
অনুরূপভাবে হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সা. একদা রাতে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি সিজদায় গিয়ে দীর্ঘ সময় সিজদায় থাকলেন। এমনকি আমার মনে হলো যে, তাঁর ওফাত হয়ে গেছে। আমি যখন এমনটি দেখলাম, তখন শোয়া থেকে উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম, ফলে তিনি নড়ে উঠলেন। তখন আমি (বিছানায়) ফিরে গেলাম। অতঃপর যখন তিনি সিজদা থেকে মস্তক উঠালেন এবং নামায শেষ করলেন তখন বললেন, হে আয়েশা, তুমি কি মনে করেছিলে যে রাসূলুল্লাহ সা. তোমার সাথে প্রতারণা করছেন? আমি বললাম, আল্লাহর শপথ, আমি এমনটি মনে করিনি। বরং আপনার দীর্ঘ সিজদার কারনে আমার মনে হয়েছে যে, আপনার ওফাত হয়ে গেছে। তখন তিনি বললেন, তুমি কি জান এটি কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা.ই সম্যক অবগত। তিনি বললেন এটি মধ্য শাবানের রাত। আল্লাহ তাআলা এ রাতে তার বান্দাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। যারা ক্ষমা প্রার্থনা করে তাদেরকে ক্ষমা করেন, যারা দয়া প্রার্থনা করে তাদেরকে দয়া করেন এবং যারা বিদ্বেষী তাদেরকে তাদের অবস্থাতেই রেখে দেন।’ {শু’য়াবুল ঈমান লিল-বাইহাক্বী, হাদীস-৩৬৭৫}
উল্লেখিত হাদীস সমূহের কোন কোন বর্ণনাকারী যয়ীফ বা দূর্বল হিসেবে বিবেচিত হলেও একই অর্থবহ হাদীস (সামান্য কম বেশি ছাড়া) অন্য মুহাদ্দিসগণের নিকট চলনসই হিসেবে চি‎‎হ্নত। তাছাড়াও এই সমস্ত হাদীস দ্বারা যেহেতু কোন আহকাম অর্থাৎ নির্দেশ প্রমাণিত করা হচ্ছে না, বরং ফযীলত ও আমল সংক্রান্ত বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে, বিধায় মুহাদ্দিসগণের নিকট উল্লেখিত হাদীসসমূহ গ্রহণযোগ্য।
উল্লেখিত হাদীসসমূহে শবে বরাত সম্পর্কে বেশ কিছু ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। সংক্ষেপে ফযীলতগুলো হল, এই রাতে ‘কালব’ সম্প্রদায়ের মেষপালের পশমের চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে ক্ষমা করে দেয়া হয়। চলতি বছরে জন্মগ্রহণকারী ও মৃত্যুবরণকারী আদম সন্তানের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। এ রাতে আদম সন্তানের আমল কবুল করা হয় এবং রিযিক প্রদান করা হয় ইত্যাদি।
শবে বরাতের রাতে যে সকল লোকের আমল কবুল হয় না বলে বর্ণিত হয়েছে, এমন লোকের সংখ্যা প্রায় এগার। এক. মুশরিক অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে যে কোন প্রকারের শিরকে লিপ্ত হয়। আল্লাহর নাম ও গুণগত বিষয়ের শিরক হোক বা আল্লাহর প্রতিপালনগত বিষয়ের শিরক হোক অথবা আল্লাহর ইবাদতগত বিষয়ের শিরক হোক। দুই. যে ব্যক্তি কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী। তিন. আত্মহত্যার ইচ্ছা পোষণকারী। চার. যে ব্যক্তি অপরের ভাল দেখতে পারে না অর্থাৎ পরশ্রীকাতরতায় লিপ্ত। পাঁচ. যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, চাই তা নিকটতম আত্মীয় হোক বা দূরবর্তী আত্মীয় হোক। ছয়. যে ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। তাছাড়াও অন্য হাদীসের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, সাত. যে ব্যক্তি মদ্যপানকারী অর্থাৎ নেশাকারী। আট. যে ব্যক্তি গণকগিরি করে বা গণকের কাছে গমণ করে। নয়. যে ব্যক্তি জুয়া খেলে। দশ. যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্য হয়। এগার. টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী পুরুষ ইত্যাদি ব্যক্তির দুআও তওবা না করা পর্যন্ত কবুল হয় না। তাই শবে বরাতের পূর্ণ ফযীলত ও শবে বরাতের রাতে দুআ কবুল হওয়ার জন্য উল্লেখিত কবীরা গুনাহ সমূহ থেকে খাঁটি দিলে তওবা করা উচিত। অন্যথায় সারারাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করেও কোন লাভের আশা করা যায় না।
শবে বরাতের আমল বা করনীয় সম্পর্কে উল্লেখিত হাদীসসমূহ থেকে যা জানা যায় তা হল, এক. এই রাতে কবর যিয়ারত করা যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই দলবদ্ধ ও আড়ম্বরপূর্ণ না হয়ে একাকী হওয়া উচিত। দুই. শবে বরাতের রাত্রিতে নামায-দুআ, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, দরূদ শরীফ ইত্যাদিতে লিপ্ত থাকা ভাল। তিন. এই রাত্রিতে দীর্ঘ সিজদায় রত হওয়া উচিত। চার. শবে বরাতের পরের দিন অর্থাৎ ১৫ই শাবান রোযা রাখা।
তাছাড়া প্রত্যেক আরবী মাসের তের, চৌদ্দ ও পনেরতম তারিখে রোযা রাখা অধিক মর্যাদাপূর্ণ একটি আমল। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে ‘রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, প্রত্যেক মাসে তিনটি রোযা এক বৎসরের রোযার ন্যায়। আর আইয়্যামুল বীয (পূর্ণ চন্দ্রময় রজনীর দিবসসমূহ) হল, তের, চৌদ্দ ও পনেরতম দিবস।’ {নাসাঈ শরীফ, হাদীস-২৩৭৭}
তবে, শবে বরাতকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশে বেশ কিছু কুসংস্কার ও বিদআত চালু আছে। তম্মধ্যে অন্যতম বিদআত হল হালুয়া-রুটি তৈরী করার এক মহা ধুমধাম। যা নিঃসন্দেহে একটি কুসংস্কার ও বিদআত। তাই, এটি বর্জন করা উচিৎ। সেই সাথে বিভিন্ন কবরস্থানে বা মসজিদে আলোক সজ্জার ব্যবস্থা করাও অপচয়ের গুনাহসহ মস্তবড় একটি বিদআত। সারারাত্রি জাগরণ করে ইবাদত-বন্দেগীর চাইতে শুধু মসজিদে-মসজিদে ঘোরাঘুরি করা আর রাস্তায়-রাস্তায় গল্প-গুজবে মশগুল থাকা এই রাত্রির মর্যাদা পরিপন্থি কাজ। বরং, এই রাত্রিতে মসজিদে সমবেত না হয়ে বাড়িতে একাকী ইবাদত করাই উত্তম। মসজিদে তো দৈনিক পাঁচবার নামাযের ইবাদত হচ্ছেই। নিজেদের বাসা-বাড়িকেও ইবাদতের গৃহ হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। তাছাড়াও সকল নফল ইবাদত মসজিদের চাইতে বাড়িতে পালন করাই উত্তম। সারারাত নফল ইবাদত পালন করে যদি ফজরের নামায কাযা হয়ে যায়, এর চাইতে দূর্ভাগ্য আর কি হতে পারে? যদি কারো জীবনে কাযা নামায থেকে থাকে, তাহলে নফল নামায পড়ার চাইতে বিগত জীবনের কাযা নামায আদায় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ এবং জরুরী। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে তার কুরআন ও হাদীস সম্মত পন্থায় ইবাদত পালনের তাওফীক দিন। আমীন।
লেখক,মাওলানা কাজী ফজলুল করিম।
মুহাদ্দিস ও খতীব, কারবালা মাদরাসা, বগুড়া।

Continue Reading | comments

সাতটি গোপন কথা যা আপনার স্ত্রী কখনও মুখে বলবেন না

সাতটি গোপন কথা যা আপনার স্ত্রী কখনও মুখে বলবেন না


বেশীরভাগ পুরুষেরই নারীদেরকে বুঝে উঠা প্রায়শই খুব কষ্টকর হয়ে যায়। এমনকি সেই নারীকেও যার সাথে সে বহু বছর বিবাহিত জীবন পার করেছে। এক মুহূর্তে তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, পর মুহূর্তেই হয়ত শিশুর মত কান্নাকাটি শুরু করে দিলেন। তিনি কোন কিছু নিয়ে অভিযোগ করছেন, আপনি হয়ত সেই সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায় তার নানারকম উপায় তাকে দেখাচ্ছেন কিন্তু তাতেও তিনি সন্তুষ্ট হচ্ছেন না।
আপনার স্ত্রী কি বলছেন তা নিয়ে বেশী দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হবেন না; বরং তিনি যা বলছেন না সেটি নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন।
১) সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আপনার স্ত্রী আপনার ভালবাসা চান
● যখন কোন স্ত্রী তার স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা কম দেখায়, বিনিময়ে স্বামী স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা কমে যায়।
● যখন স্বামী স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা কম দেখায়, বিনিময়ে স্ত্রী স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা কমে যায়।
এবং এটি একটি দুষ্টচক্র যা চলতেই থাকে।
► এই চক্র শুরু হওয়ার আগেই তা ভেঙ্গে ফেলুন। আপনার স্ত্রীর প্রতি আপনার ভালবাসা প্রকাশ করুন। তিনি ঠিক সেটাই চান।
তার ভুলত্রুটি, দোষ থাকা সত্ত্বেও তাকে ভালবাসুন।
ইন শা আল্লাহ, তিনিও আপনাকে আপনার ভুলত্রুটি ও দোষ থাকা সত্ত্বেও শ্রদ্ধা করবেন।

২) আপনার স্ত্রী একঘেয়েমিতে ক্লান্ত

প্রতিটি দিন একই রকম। সপ্তাহ আসে, সপ্তাহ যায়। এই একঘেয়েমিতে তিনি ভীষণ ক্লান্ত। তাকে সন্তান প্রতিপালন করতে হয়, সংসার সামলাতে হয়, তারপর আবার আপনার প্রয়োজন মেটাতে হয়, আপনার মন রক্ষা করতে হয়।
প্রতিদিন এমনটি করতে হবে ভাবতেই তো কোথাও পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করবে পুরুষদের। ভেবে দেখুন যে কোন সাধারণ মুসলিমা স্ত্রীর কেমন অনুভূতি হয়।
আর কর্মরত নারীদের কথা ভুলে গেলে হবে না। অনেক নারীকে সারাদিন চাকরি করে এসেও সংসার সামলাতে হয়।
► কাজেই ভাইয়েরা আমার, করজোড়ে আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনার স্ত্রী কে সেই অনুভূতিটি উপহার দিন যে – তিনি বিশেষ। তাকে একটু একঘেয়েমি থেকে ছুটি দিন।
তাকে মাঝে মাঝে বাইরে খেতে নিয়ে যান। অথবা তার জন্য তার প্রিয় খাবারটি বাইরে থেকে কিনে আনুন। অথবা তাকে নিয়ে এমনিই কোথাও বেড়িয়ে আসুন।
কিছু একটা অন্তত প্রায়ই করুন, তার একঘেয়েমির বন্দিদশা ভেঙ্গে দূর করে দিন।

৩)  তিনি প্রশংসিত হতে চান

প্রশংসা; কে না পেতে চায়? কেউ চায় না যে তার কষ্টের শ্রম কেউ লক্ষ্যও না করুক কিংবা এর চেয়েও খারাপ হল- সবাই তার সারাদিনের পরিশ্রমের কাজকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়ে তার সঠিক মূল্যায়ন টুকুও না করুক।
আপনার স্ত্রী আপনার ময়লা কাপড় পরিস্কার করতে বাধ্য নন। তিনি আপনার খাবার তৈরি করতেও বাধ্য নন। তবুও তিনি সবসময় তা করে চলছেন। আর তিনি এসব তার জীবনের অন্যান্য অনেক কিছুর চেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে করছেন।
● সন্তান প্রতিপালন
● কাজে অথবা স্কুলে যাওয়া
● আত্মীয় স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা
● আরও ভাল মুসলিমাহ হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
►আপনার স্ত্রীকে দেখিয়ে দিন যে আপনিও তার পরিশ্রমের গুরত্ব বোঝেন, এবং আপনি তার প্রতি কৃতজ্ঞ কারণ তিনি তার সাধ্য মতো আপনার এবং আপনার পরিবারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
একটি ছোট্ট ‘ধন্যবাদ’ দিয়ে শুরু করলেও মন্দ হবে না।

৪)  তিনি প্রচণ্ড ঈর্ষাকাতর

একারনেই তিনি বহুবিবাহ নামক বৈধ বিষয়টি সহজে মেনে নিতে সম্পূর্ণ নারাজ। নিজেকে তার অবস্থানে বসিয়ে চিন্তা করে দেখুন, আপনিও মানতে পারেন কিনা। আপনার স্ত্রীর সামনে অন্য কোন নারীকে নিয়ে কোন কথা বলার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকুন। কক্ষনো আপনার স্ত্রীকে অন্য কোন নারীর সাথে তুলনা করবেন না।
• কক্ষনো তাকে কোন নায়িকার সাথে তুলনা করবেন না।
• কখনই তাকে আপনার মা অথবা বোনের সাথে তুলনা করবেন না।
• ভুলেও তার সাথে আপনার আগের স্ত্রী বা অন্য স্ত্রীর (যদি থাকে) তুলনা করবেন না।
► তিনি এটা জানতে এবং বিশ্বাস করতে চান যে তাকে ঘিরেই আপনার জগত। কাজেই তাকে সেরকমটিই অনুভব করান।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণের যারা সমগ্র নারী জাতির জন্য উদাহরন, এমনকি তাঁদের মধ্যেও এই ঈর্ষাটি ছিল। আয়েশা (রাঃ)ও, খাদিজা (রাঃ) কে নিয়ে ঈর্ষা বোধ করতেন যিনি তখন জীবিতও ছিলেন না।
আপনার স্ত্রীর মধ্যেও এই ধরনের ঈর্ষার অস্তিত্ব জেনে রাখুন এবং তার মর্যাদা দিন।

৫) একজন ভাল মুসলিমাহ হওয়ার জন্য তিনি আপনার সহযোগিতা চান

পুরুষের তার পরিবারে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আর সেটাই আজকাল অনেক মুসলিম পুরুষের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা যে শুধু সঠিক নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হচ্ছে তাই না, বরং অনেক ক্ষেত্রেই সে স্ত্রীর (অথবা মা এর কিংবা তার জীবনের অন্য কোন নারীর) কথায় উঠছে, বসছে।
আপনার স্ত্রী চান আপনি তাকে নেতৃত্ব দিন। কারণ নেতৃত্বের সাথে জড়িয়ে আছে দায়িত্বশীলতার বিষয়টি। আপনার স্ত্রী চান আপনি তার দায়িত্বও পরিপূর্ণ ভাবে গ্রহন করেন। আর একজন ভাল মুসলিমাহ হওয়ার পথে স্ত্রীকে নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে? তবে মনে রাখবেন, এই নেতৃত্ব দেওয়াকে শাসন করার সাথে যেন গুলিয়ে না ফেলেন। এই নেতৃত্বের অর্থ সঠিক পথের নির্দেশনা দেওয়া ও সে পথ অনুসরণে যাবতীয় সহযোগিতা করা।
► কিন্তু আপনি নিজেই যদি উত্তম আদর্শের অনুসারী না হন তাহলে কি করে আরেকজনকে শেখাবেন যে কিভাবে ভাল হতে হয়? কাজেই আপনাকে আগে আপনার নিজের ঈমান মজবুত করতে হবে। আগে নিজেকে শুধরাতে হবে, তারপর আপনার স্ত্রীকেও ভদ্রতা, মর্যাদা, এবং হিকমতের সাথে বুঝাতে হবে।
উদাহরণ স্বরূপ, আপনার স্ত্রী যদি ঠিক মতো পর্দা না করেন তাহলে প্রথমে তার জন্য এমন পোশাক পরিচ্ছদ কিনে আনুন যাতে তিনি ঠিক মতো পর্দা করতে পারেন। তারপর তাকে প্রশংসা করে বলুন যে আপনি তাকে একজন সম্ভ্রান্ত নারী রূপে দেখতে ভালবাসবেন, এবং তাকে এমন পোষাকে দেখতে চান যে পোশাক আল্লাহ্‌ কে সন্তুষ্ট করবে। তিনি যদি নিয়মিত সালাত আদায় না করেন, সংসারের কাজের অজুহাত দেখান, আপনি তার কাজে সাহায্য করে তার জন্য ১৫-২০ মিনিট সময় বের করে দিয়ে আগে সালাত আদায় করে নিতে বলুন। আপনিই সবচেয়ে ভাল বুঝবেন কিভাবে বললে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি মনে আপনার কথা শুনবেন।

৬)  তিনি ক্রমাগত অভিযোগ করতে ভালবাসেন না, কিন্তু মাঝে মাঝে আপনিই তাকে বাধ্য করেন

সবাই এটা মনে করেন যে নারীরা তাদের স্বামীদের সাথে খুঁতখুঁত করতে পছন্দ করেন। কিন্তু সেটা পুরোপুরি সত্য নয়। হ্যা, কিছু মানুষ (নারী এবং পুরুষ) এমন আছেন যাদেরকে কিছুতেই সন্তুষ্ট করা যায় না। আপনি যা-ই করুন না কেন, তারা সেটাতে দোষ ধরবেনই। আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন-
“আমাকে জাহান্নাম দেখান হয়। (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক; (কারণ) তারা কুফরী করে। জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারা কি আল্লাহ্‌র সাথে কুফরি করে?’ তিনি বললেন, ‘তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং ইহসান অস্বীকার করে। তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারও প্রতি ইহসান করতে থাক, এরপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখলেই বলে, ‘আমি কখনও তোমার কাছ থেকে ভাল ব্যবহার পাইনি।’ [সহীহ বুখারীঃ ২৮; ইফা]
কাজেই, বোনদেরকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিৎ যে, তাদের স্বামীরা তাদের জন্য যা করেন, তা যেন তারা তুচ্ছজ্ঞান করে অকৃতজ্ঞতা না করেন।
► কিন্তু, ভাইয়েরা প্রায়শই তাদের স্ত্রীর জন্য জিহ্বা সংযত রাখা কঠিন করে দেন। লক্ষ্য করে দেখুন, আপনিই হয়তো প্রশংসার বদলে সবসময় স্ত্রীর দোষ ধরছেন আর তিনিও পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য আপনার খুঁত খুজে বের করছেন। কিংবা হয়তো আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট কাজ করছেন না (হতে পারে তা সাংসারিক টুকটাক সহযোগিতা) যা পুষিয়ে নিতে তাকে বাড়তি খাটুনি করতে হচ্ছে। অথবা হয়তো আপনি মানুষ হিসেবে খুব বেশী আদর্শ নন।
সবশেষে আবারো বলছি, আগে নিজের ভেতর উন্নয়ন ঘটান; আপনার স্ত্রীর খুঁতখুঁত এবং অভিযোগ করার সুযোগই কমে যাবে।

৭)  সবচেয়ে বেশী তিনি চান, আপনার সাথে একটি স্থায়ী ও সুখী সম্পর্ক

নারীরা এটা ভেবে বিয়ে করে না যে ‘বিয়ে করে খুব মজা হবে।’ তারা বিয়ে করেন কারণ তারা একটি সুখী সংসার জীবন চান; এবং তারা আশায় থাকেন যে আপনি তাকে তা দেবেন। ধর্মীও দায়িত্ব ও কর্তব্যের পর এটাই একজন মুসলিমাহ নারীর প্রধান চাওয়া- একটি সুখী, স্থায়ী, মুসলিম পরিবার গড়ে তোলা। মজার ব্যাপার হল, এটা দেওয়া আপনার জন্য খুবই সহজ কাজ।
► ক) বোধহীন মানুষের মতো আচরণ করবেন না। তার জন্য একজন ভালো স্বামী হন। তার প্রতি আপনার ভালোবাসা মুখে প্রকাশ করুন।
খ) কখনও তাকে তালাক বা আরেকটি বিয়ের ভয় দেখাবেন না। হ্যাঁ, আপনার তা করার অধিকার আছে। কিন্তু এই বিষয়গুলোকে নিয়ে ভীতি প্রদর্শন করা আপনাদের সাংসারিক জীবনের জন্য অনুপযোগী এবং ক্ষতিকারক। এরকম ভীতি দেখিয়ে কখনও কল্যাণ আশা করতে পারেন না। কারণ এধরনের ভীতি কখনই তার মনে আপনার জন্য শ্রদ্ধা বা ভালবাসা বাড়িয়ে দেবে না, বরং উল্টোটাই হবে।
গ) আল্লাহ্‌র উপর ভরসা রাখুন। শয়তানের প্রতারণার ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকুন। স্ত্রীর বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করুন। অন্য সবকিছুর চেয়ে, স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদে সবচেয়ে বেশী আনন্দিত হয় শয়তান।
দেখলেন? সবকিছু এতটা কঠিনও না এখন, তাই না?
Continue Reading | comments

হযরত আলী (রাঃ) বাণী

Continue Reading | comments

দরকারি চিকিৎসাসেবার অ্যাপ হিসেবে ‘আরএক্স ৭১ হেলথ’ অ্যাপটি সাড়া ফেলেছে।

দরকারি চিকিৎসাসেবার অ্যাপ হিসেবে ‘আরএক্স ৭১ হেলথ’ অ্যাপটি সাড়া ফেলেছে।

 গুগল প্লে স্টোরে উন্মুক্ত হওয়ার দুই দিনের মধ্যেই এটি তিন হাজারের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। ব্যবহারকারী অ্যাপটির কার্যকারিতা নিয়ে ‘রিভিউ’ অংশে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। ১০০ জনের বেশি ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ‘ফাইভ স্টার’ রেটিং পেয়েছে অ্যাপটি।

বর্তমানে গুগল প্লের হেলথ অ্যান্ড ফিটনেস ক্যাটাগরির ‘টপ ফ্রি’ তালিকার শীর্ষে রয়েছে দরকারি এ অ্যাপ।
আরএক্স ৭১ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের অন্যতম একটা সমস্যা হলো, কোন ডাক্তার এর কাছে যাব, এইটা বুঝতে না পারা। আপনার যাওয়া উচিত মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে, কিন্তু চলে গেলেন সার্জনের কাছে।

তাহলে বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে। দুই বছর গবেষণা করে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। আপনার শারীরিক ও মানসিক লক্ষণের ভিত্তিতে আপনার সম্ভাব্য রোগের তালিকা দেওয়ার সঙ্গে রোগের বিস্তারিত তথ্যও দেবে। রোগ থেকে ভালো থাকার জন্য পরামর্শ, অ্যানিমেটেড ভিডিও ও রোগের জন্য ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা। এ ছাড়া পুষ্টি তথ্যসহ আরও অনেক কিছু আছে অ্যাপে।
অ্যান্ড্রয়েডের পাশাপাশি আইওএস ও উইন্ডোজ প্ল্যাটফর্মের জন্য শিগগিরই অ্যাপটি উন্মুক্ত করা হবে।
নিজাম উদ্দিন আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার আধুনিকীকরণের উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে আরএক্স ৭১ (https://rx71.co/ ) লিমিটেড। উন্নত দেশগুলোতে চিকিৎসাসেবায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে স্বাস্থ্য-বিষয়ক যাবতীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ আমাদের দেশে বৃহৎ আকারে গৃহীত হয়নি। মূলত চিকিৎসা খাতের এই অভাব পূরণই আমাদের লক্ষ্য।
অ্যাপটি ডাউনলোডের লিংক Download
Continue Reading | comments

স্থায়ীভাবে ঝটপট ফর্সা ত্বক পাওয়ার ঘরোয়া উপায়

স্থায়ীভাবে ঝটপট ফর্সা ত্বক পাওয়ার ঘরোয়া উপায়

সবার মাঝে মধ্যমণি হিসেবে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য চাই সুন্দর ফর্সা ত্বক। তাইতো ছুটির দিনগুলোতে ঝটপট Instant তৈরি করে নিন কার্যকরী কিছু ফেসমাস্ক। একদিনেই ত্বকে দারুণ জেল্লা এনে দিতে এই প্যাকের তুলনা হয় না। তাহলে আসুন দেখে নেয়া যাক ঘরোয়া উপায়ে ঝটপট ফর্সা ত্বক fair skin পাওয়ার উপায়।

স্ট্রবেরি ফেসমাস্ক –
স্ট্রবেরি কেবল সুস্বাদু ফলই নয় এতে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান আমাদের ত্বকের জন্যও উপকারী। শুধুমাত্র ২ থেকে ৩ টি স্ট্রবেরি নিয়ে ভালোভাবে পেস্ট করে তা মুখে ও গলায় লাগিয়ে নিন। এটি মুখে ১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকে ফর্সাভাবের সঙ্গে আসবে কোমল আর নরম ভাব।
টমেটো ফেসমাস্ক –
আমাদের অতি পরিচিত টমেটো দিয়ে ফেসমাস্ক বানিয়ে ঝটপট ফর্সা ত্বক পেতে পারি। সেজন্য ১ টেবিল চামচ টমেটো রস, আধা টেবিল চামচ লেবুর রস ও ১ টেবিল চামচ গোলাপ জল নিন। সব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে মিশ্রণটি মুখে ও গলায় ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখার পর মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আপনিই পরখ করুন ত্বকের অভাবনীয় উজ্জ্বলতা।
কলা ফেসমাস্ক –
একটা কলার অর্ধেকটা নিয়ে ভালোভাবে চটকে পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। এবার সেই পেস্টে দুই টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। পেস্টটি আপনার মুখে আর গলায় ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। হালকা ম্যাসাজ করে এটি ২০ মিনিট ত্বকে রাখার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কের সবচেয়ে বেশি ভালো দিকটি হল এটি সব ধরণের ত্বকের জন্য উপযোগী।
আপেল ফেসমাস্ক –
আপেল মাস্ক হিসেবে অসাধারণ। ১ টেবিল চামচ আপেল জুসের সঙ্গে আধা টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি প্যাক বানাতে হবে। এবার প্যাকটি আপনার মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ইনস্ট্যান্ট ফর্সা ত্বক পেতে এই মাস্কের তুলনা হয়না আর এটিও সব ধরণের ত্বকের জন্য উপযোগী।
Continue Reading | comments

ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার একটি জাদুকরি উপায়

ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার একটি জাদুকরি উপায়

তবে সবচেয়ে নিরাপদ হল  যদি  শুষ্ক ফল এর মত অবস্থায় ত্রিফলা ব্যববার করেন। ত্রিফলা হল ৩ টি  ফলের মিশ্রন। এতে থাকে আমলকি, হরিতকি, বিভিতকি।

ত্রিফলা ব্যাবহার পদ্ধতি –
ত্রিফলার মিশ্রণের একটি অংশ (যাতে অন্তত ১ টি হরিতকি, ১ টি  বিভিতকি ও ২ টি  আমলকি থাকে) গুড়া করে রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সকালে খালি পেটে রস টি ছেকে খেয়ে নিতে হবে। খাওয়ার পর অন্তত ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে নাস্তা করার জন্য।
ব্রণের দাগ থেকে মুক্তি-
ব্রণের দাগ ও ব্রণের উপর লবঙ্গ বেটে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখবেন। ১ দিন পর পর টানা ১ মাস এভাবে লাগালে দাগ কমে যাবে। লবঙ্গে ঝাঁঝ থাকে বলে লাগানোর প্রথম ৫-৭ মিনিট ত্বক জ্বলবে, কিন্তু এতে ঘাবড়িয়ে যাবেন না। কিছুক্ষণ পর জ্বলা ঠিক হয়ে যাবে। প্রতিবার ই এমন হবে। লবঙ্গ বাটার সময় এতে একটু পানি মিশিয়ে নিবেন।
Continue Reading | comments

সম্পর্ক শুরুর আগে এই প্রশ্নগুলো অবশ্যই সঙ্গীকে করুন!

সম্পর্ক শুরুর আগে এই প্রশ্নগুলো অবশ্যই সঙ্গীকে করুন!

সম্পর্ক মানে একে অন্যের ভালোবাসায় হারিয়ে যাওয়া। সম্পর্ক তখনই তৈরি হয়, যখন একজন অন্যজনের ওপর ভরসা, বিশ্বাস, নির্ভর করে। তবু সম্পর্কে ভাঙন আসে। যা কারও কাম্য নয়। কিন্তু ভীতটা যদি মজবুত না হয়, তাহলে সম্পর্ক টেকে না। তাই নড়বড়ে ভীত নয়, সম্পর্কে মজবুত, শক্তপোক্ত ভীত তৈরি করতে সম্পর্কের আগেই সঙ্গীকে এই প্রশ্নগুলো করে নিন। তাহলেই দেখবেন সম্পর্কের পর আর অযথা মনমালিন্য তৈরি হবে না।

১) তুমি আমাকে কেন ভালোবাসো?
২) তুমি কি আপস করে চলতে পারো?
৩) সম্পর্কের জন্য কি তুমি তোমার লক্ষ্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে?
৪) তোমার সঙ্গে তোমার পরিবারের সম্পর্কটা ঠিক কেমন?
৫) তুমি তোমার সারা জীবন কেন আমার সঙ্গে কাটাতে চাও?
৬) সারা জীবন কি তোমার মধ্যে রোম্যান্স বেঁচে থাকবে?
৭) অভিভাবক হিসেবে তুমি কেমন?
৮) তুমি কি আমার কাছ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে পারো?
৯)  দিয়ে তুমি কতটা প্রতিশ্রুতি রাখতে পারো?
১০) এই সম্পর্কটা তুমি কতদিন টিকিয়ে রাখতে চাও?
Continue Reading | comments

ঘাড়, ঠোঁট ও চোখের নিচের কালো দাগ উঠাতে করণীয়

ঘাড়, ঠোঁট ও চোখের নিচের কালো দাগ উঠাতে করণীয়

অনেকের গায়ের রং ফর্সা হলেও ঠোটের রং কালচে। কিন্তু এ নিয়ে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। আমাদের হাতের কাছেই রয়েছে প্রাকৃতিক কিছু উপায়। যা দিয়ে এই ঠোঁটের কালচে রংসহ আরও বেশ কিছু উপকার পাওয়া যাবে।

# কয়েক ফোটা পাতি লেবুর রস, মধু ও ম্যাসাজ ক্রিম মিশিয়ে দিনে দু’বার করে ঠোটে ম্যাসাজ করলে মাস খানেকের মধ্যেই সুফল পাওয়া যাবে। তবে নিয়মিত ও নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।
# অনেকের চোখের নিচে কালো দাগ দেখা যায়। তারা লেবুর রসে মধু মিশিয়ে ম্যাসাজ করলে চোখের নিচের কালো দাগ দূর হতে পারে।
# গলায় ও ঘাড়ের কালো দাগ তুলতে হলে: ৪টি বড় এলাচ, ৫/৬টি দারুচিনি, ১০/১২টি কিসমিস, ৪/৫টি চিনা বাদাম রাতভর ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন সবগুলো একসঙ্গে মিহি করে বেটে নিয়ে একটা কৌটা ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। এই অবস্থায় ৭ দিন পর্যন্ত এটি অবিকৃত থাকবে। প্রতিদিন একটু করে ওই বাটা বের করে বাড়িতে পাতা দই, মধু ও গুড়ো চিনি মিশিয়ে প্যাকের মতো মুখে, গলায় ও ঘাড়ে লাগান। ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। রোদে পুড়ে মলিন হওয়া চামড়া এবং স্বাভাবিক কালো ত্বকের পক্ষে এই প্যাকটি খুবই কার্যকর।
# অনেক সময় (গায়ের স্বাভাবিক রং) প্রবলেমের জন্য গায়ের রং কালো হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে এক চামচ বেশন, এক চামচ পাকা আমের শাস, আধা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা। এক চামচ গাঁদা ফুলের পাঁপড়ি কাঁচা দুধ দিয়ে মিশিয়ে গোসলের আধা ঘণ্টা আগে লাগাতে হবে। এমন জায়গায় লাগাবেন যেখানে পিগমেন্টেশন হয়েছে।
Continue Reading | comments

ক্ষমা? ~ সুশোভন পাত্র

ক্ষমা? ~ সুশোভন পাত্র

ক্ষমানিভিয়া'র বডিলোশেন নিয়মিত মাখলে নাকি আপনার স্ত্রী'র ত্বক এমন একটা বিশেষ মাত্রায় 'সফট' হবে যে ঘর ছেড়ে আপনার আর অফিস যাওয়াই দায়। ডাভ সাবানের যত্নশীল ব্যবহারে আপনার গালে আবার ফিরে আসতে পারে শৈশবের নরমতা। জনসন অ্যান্ড জনসনের ম্যাসাজ ওয়েলের দ্বি-প্রাহরিক মর্দনে আপনার শিশু পুত্রের পশ্চাদদেশের নমনীয়তা টেক্কা দেবে কাপার্সের কোমলত্ব কে। লোরিয়েলের লাস্যময়ী শ্যাম্পু আপনার মাথার চুল কে করবে গোড়া থেকে শক্ত এবং বাইরে থেকে নরম। আজকাল তো, ক্লোস আপের দয়ায় ৩২ পাটি দাঁত, সিন্ডিকেটের ক্যারিশমায় উড়ালপুলের স্ল্যাব, আর ভোটের বালাইয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সুরও নরম হচ্ছে। কিছুদিন আগেও যিনি সবাইকে "ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে মেপে" নিচ্ছিলেন, "কত ধানে, কত চাল" কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নিচ্ছিলেন, পুলিশ কে "চাবকে লাল" করে দিচ্ছিলেন, নিজেকে "রাফ এন্ড টাফ" দাবি করছিলেন, নিজের মার্কশিটে নিজেই ১০০/১০০ বসিয়ে ফেলছিলেন আর গলার শিরা ফুলিয়ে "আমাকে ধমকালে আমি চমকাই, আমাকে বর্ষালে আমি গরজাই", "তুমি বুনো ওল হলে আমি বাঘা তেঁতুল" -- ডায়লগে বাজার গরম করছিলেন, তিনি কিনা শেষে  করজোড়ে ক্ষমা চাইছেন? ভুল স্বীকার করে মানুষের করুণা আর সহানুভূতি ভিক্ষা করছেন? 
Continue Reading | comments
 
Copyright © 2011. Bismillah Digital Studio . All Rights Reserved
Company Info | Contact Us | Privacy policy | Term of use | Widget | Advertise with Us | Site map
Template Modify by Creating Website. Inpire by Darkmatter Rockettheme Proudly powered by Blogger